নতুন বাড়ি তৈরির স্বপ্ন কম-বেশি আমরা সকলেই দেখে থাকি, তবে সেটা তৈরি হয়ে যাবার পর পড়ে থাকা উচ্ছিষ্ট বস্তুগুলোর পরিষ্কার করার কথা আমরা কেউ ভাবি না– ভাবেননি ভগবতী বাবুও। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ভগবতী বাবুর পুরো নাম ভগবতী বিশ্বাস তিনি থাকেন রসাখোয়া গরু হাটের পাশে অবস্থিত ইস্কুলপাড়ায়, সদ্য কিছুদিন আগেই নিজের বহু কষ্টে জমানো টাকা দিয়ে সুন্দর একটি বাড়ি তৈরি করেছেন কিন্তু সেটি তৈরি হয়ে যাওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা উচ্ছিষ্ট বস্তিগুলোতেই দানা বেঁধেছে এক ভয়ানক বিপদ। বাড়ির পিছনে পড়ে থাকা নোংরা আবর্জনা গুলো দেখে ভগবতী বাবুর আজ মনে হয়েছিল সেগুলো বেচে দেওয়া উচিত আর তার জন্যই তিনি ডেকে এনেছিলেন এক ভাঙাচোরা ক্রেতাকে। প্রচুর পরিমাণ আবর্জনা খুব খুশিতেই গুটিয়ে নিয়েছিলেন সেই ভাঙাচোরা ওয়ালা, কিন্তু হঠাৎই এক বড় ডিসপ্লের টুকরো উঠাতেই সেখানে তিনি দেখতে পান চারদিকে চারটি বড় মাপের মোটা গোখরা সাপ কিলবিল করতে করতে ছুটে চলেছে। ঘটনাটি ভগবতী বাবুর কানে আসতেই কী করবেন ভেবে না পেয়ে তিনি আশেপাশের লোকজনকে জানান, কথাটি গোপাল বাবুর কানে যেতেই তিনি কোন করেন রায়গঞ্জ বাঁশি তার বন্ধুকে যার মারফত এই rescue কল এসে পৌঁছায় আমাদের organization-এ।

কোনটি পাওয়ামাত্রই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমাদের সদস্যরা পৌঁছে যায় ভগবতী বাবুর বাড়িতে, সেখানে একটি সাড়ে চার ফুটের গোখরা সাপকে কাঠের নিচে শুয়ে থাকতে দেখে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে নেওয়া হয়। এরপর টানা দু ঘন্টা ধরে চেষ্টা করা হয় বাকি সাপগুলিকে খুঁজে পাবার।
কঠোর পরিশ্রমের পরও সেখান থেকে মাত্র একটি সাপকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয় আমাদের সদস্য রিজু শীল ও কৃষ্ণেন্দু সরকার। তাদের মতে “লোকের কথা মতো আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করলাম, তারা যে অনেকগুলো গর্ত থাকার কথা বলেছিল সে রকম কোনো গর্তই আমরা সেখানে খুঁজে পাইনি। আমাদের মনে হয় তাদের নিশ্চয়ই দৃষ্টি ভ্রম হয়েছে, একটি সাপকে তারা হয়তো বিভিন্ন জায়গায় দেখেছে। তবুও আমরা সাপ দেখা গেলেই আমাদের জানাতে বলেছি।” সাপ উদ্ধার এর সাথে সাথে পরিবেশ ও বন্যপ্রাণ এর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে তাদের সচেতনও করা হল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *