আমরা প্রায়ই দেখে থাকি সাপ, তক্ষক জাতীয় অনেক সরীসৃপরা রাস্তায় গাড়ির চাকায় পিসে মারা গেছে এর জন্য দায়ী শুধু সেই গাড়ির চালক নয় কিছুটা অংশে দায়ী আমরাও। আমরা যদি এই সব বন্যপ্রাণ এর গাড়ির চাকায় পিসে মৃত্যুর ঘটনা গুলো বিশ্লেষণ করি তাহলে কয়েকটি জিনিস খুব ভালো ভাবে বুঝতে পারবো যেমন অধিকাংশ এই জাতীয় মৃত্যু আমরা দেখতে পাই জাতীয় সড়ক গুলোর ওপর যেখানে বহু বছর আগে বিশাল অরণ্য ছিল কিন্তু সেই অরণ্য কেটে রাস্তা তৈরি করা হলো যার জন্য বন্যপ্রাণী দের বাস্তুতন্ত্রের ওপর বিশাল একটা কুপ্রভাব পরলো। কিন্তু সভ্যতার তাতেও শান্তি নেই এরপর শুরু হলো রাস্তার পাশের গাছগুলো কেটে নানা রকম ইন্ডাস্ট্রি তৈরি করা। এর ফলে ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হতে থাকলো পরিবেশের সেই সব অমূল্য সম্পদ। কিন্তু তারপরেও যারা নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হলো বিপদটা ঘনিয়ে এলো তাদেরও। তারা নিজেদের জঙ্গল হারিয়ে যখন রাস্তার এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে নিজেদের খাদ্যের জন্য ছোটাছুটি করতে লাগলো তখন আমাদের বিলাসবহুল গাড়ির নিচে চাপা পরে প্রাণ হারাতে থাকলো একটার পর একটা বন্যপ্রাণ। এরজন্য গাড়িচালক কে দোষারোপ করা ঠিক নয় কারণ জাতীয় সড়কে নূন্যতম গাড়ির স্পিড বজায় তো রাখতেই হবে। তাহলে সে দিক থেকে আমরা আর কিছু করতে পারবো না তাহলে যেই কাজ টা করতে পারবো সেটা হলো, বনভূমি রক্ষা করা অর্থাৎ যা রাস্তা বানানোর বানানো হয়েছে সেগুলো থাক কিন্তু নতুন করে যাতে আর অরণ্য কেটে রাস্তা বা ইন্ডাস্ট্রি বানানো না হয় সে দিকে আমাদের বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে।আর সরকারকেও এই বিষয়ে বিশেষ ভাবে নজর রাখতে হবে যাতে কেউ কোথাও অবৈধ ভাবে অরণ্য নষ্ট না করে বা বৈধ ভাবেও যাতে কোনো বনভূমি ধ্বংস না হয়।কারণ ওদের জন্যই এখনো আমরা ভালোভাবে পরিবেশের সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রেখে টিকে আছি। যেদিন মানুষ ছাড়া সমস্ত জীবজগৎ শূন্য হয়ে যাবে সেদিন থেকে পৃথিবীর মনুষ্য শূন্য হতে বেশি দিন সময় লাগবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *