জীবন কে বাজি রেখে আমাদের সদস্যরা গত ২ রা জানুয়ারী রায়গঞ্জের ইন্দিরা কলোনি তে একটি পূর্ণবয়স্ক চিতাকে এবং চিতার দ্বারা আক্রান্ত মানুষকে রক্ষা করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। চিতা ধরার কোনো প্রশিক্ষণ, নাইলনের বড় নেট বা ঘুমপাড়ানি গুলির ব্যবস্থা আমাদের না থাকলেও, শুধু মাত্র মানুষের বিশ্বাসকে পূর্ণ মর্যাদা দিতে , রায়গঞ্জের মানুষকে আতঙ্ক মুক্ত করতে এবং ইন্ডিয়ান লেপার্ডের মতো লুপ্তপ্রায় একটি অতি মূল্যবান বন্য প্রাণীকে রক্ষা করতেই আমাদের সদস্যরা ছুটে গিয়েছিলো যখন আমাদেরকে বন দপ্তরের কর্মী ভেবে বহু আতঙ্কগ্রস্ত মানুষ আমাদের অনুরোধ করেছিলেন কিছু একটা করতে।আমাদের পশু প্রেমী সংস্থা উত্তর দিনাজপুর পিপল ফার এনিম্যালস বিগত দিন গুলোতে বিনা প্রশিক্ষণেই ডলফিন , ঘড়িয়াল , অজগর এর মতো বন্য প্রাণীদের উদ্ধার করে উত্তর দিনাজপুর জেলা বাসীর বিপুল আস্থা অর্জন করেছে। তাই পশু – পাখির যেকোনো সমস্যার কথা নির্দ্বিধায় মানুষ আমাদের জানায়। মানুষের দ্বারা অত্যাচারিত হয়ে চিতাটি যখন আমাদের চোখের সামনে একজনকে আক্রমণ করে , তখন আমাদের অতি সাহসী সদস্য রাজন শর্মা(Rajan Sharma) নিজের জীবনের কথা চিন্তা না করে সেই চিতাটির ওপর ঝাঁপিয়ে পরে একজনকে সাক্ষাৎ মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করে। এই দৃশ্য দেখে আমাদের অন্যান্য সদস্য রাও যেমন সোমেন দাস(Somen Das), সুমিত চন্দ(Sumit Chanda), সৈকত দত্ত(Saikat Dutta), দেবাশীষ দাস(Madboy Debashis), শুভম দাস(Subham Das), শুভ পোদ্দার(Subha Podder), রঞ্জিত ঘোষ, প্রতাপ সিং(Pratap Singh), অতলান্ত চৌধুরী(Atalanta Chowdhury Krait) ও ঝাঁপিয়ে পরে চিতা বাঘের হাত থেকে রাজন শর্মা কে বাঁচানোর পাশাপাশি প্রায় ছয় ফুট লম্বা চিতাটিকে কাবু করে জাল বন্দি করে নিতে।চিতার সাথে আমাদের সদস্য এবং আমাদেরকে সাহায্য করতে আসা কিছু যুবকের সাথে বেশ কিছুক্ষন ধস্তা ধস্তি চলে। চিতার মাথাটিকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য চিতাটিকে হেলমেটও পরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু উৎসাহী মানুষের অত্যধিক ভিড়ের জন্য , আমাদের অভিজ্ঞতার জন্য এবং প্রয়োজনীয় জিনিসের অভাবে আমরা পারিনি চিতা টিকে জালবন্দী করতে। প্রচন্ড শক্তি দিয়ে চিতাটি দশজনকে ছিটকে দিয়ে এবং প্রচন্ড ভাবে সবাইকে আহত করে দিয়ে উল্টোদিকের বিপ্লব সাহার শোয়ার ঘরে গিয়ে আশ্রয় নেয় এবং বেঙ্গল ট্রান্সপোর্ট এর সামান্য একজন শ্রমিক যমুনা পাসমান সাহস করে তার উপস্থিত বুদ্ধি দিয়ে সেই ঘরের দরজা বন্ধ করে দেয়। সাময়িক ভাবে হাফ ছেড়ে বাঁচে উপস্থিত কৌতূহলী মানুষজন থেকে শুরু করে বনদপ্তরের কর্মীরা এবং আমাদের সদস্য রাও। ঘন্টা পাঁচেক পার শুকনা রেঞ্জের কর্মীরা এসে দেড় ঘন্টার চেষ্টায় শেষ পর্যন্ত চিতাটিকে ঘুম পারেনি গুলি দিয়ে কাবু করে খাঁচা বন্দি করে। আমরা আমাদের সমস্ত সদস্যদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। ধন্যবাদ জানাই ইন্দিরা কলোনি তথা রায়গঞ্জের মানুষকে চিতা টিকে বাঁচানোর জন্য। আমাদের আহত সদস্যদের চিকিৎসা চলছে। আশা করি আপনাদের আশীর্বাদে তারা খুব তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠবে। এই পোস্টটা দিতে আমাদের দেরি হলো কারণ আমরা মনে করি যে ফেইসবুক এ আপডেট দেবার চেয়েও এআহত সদস্যদের দেখাশুনা করা এবং তাদের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা অনেক বেশি প্রয়োজন ছিল। কি বলেন বন্ধুরা ? সবাইকে আরো একবার হালুম নিউ ইয়ার। ভালো কাটুক ২০১৭।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *